ঘাসের দ্বীপ টিটিকাকা!

ঘাসের দ্বীপ টিটিকাকা!

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকায় চড়ায় অভিজ্ঞতা কম-বেশি সবারই আছে।নদীর বুকে নৌকা অহরহই চলে আমাদের দেশে।চলে খাল-বিল কিংবা সমুদ্র উপকূলেও।কিন্তু সমতল ভুমি থেকে হাজার ফুট উঁচুতে নৌকায় চড়তে গেলে যেতে হবে টিটিকাকা হ্রদে।তাও আবার কাঠ বা ইস্পাতের তৈরি কোনো নৌকা নয়, সেখানে চলে ঘাসের তৈরি নৌকা।

টিটিকাকা হ্রদ। নামটা অদ্ভূত শোনালেও জায়গাটা কিন্ত বেশ।সমতল থেকে ১২ হাজার ৫০৭ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।অত উঁচুতে নৌকায় চড়ার আনন্দই আলাদা। আর সে নৌকাটি যদি হয় ঘাসের তৈরী তাহলে কিন্তু আ্যডভেঞ্চার বাড়বে বৈ কমবে না।তবে ঘাসের তৈরি নৌকায় চড়তে গেলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।এই নৌকা ডোবার সম্ভাবনা যেমন কম,তেমনি এত বেশি উচুতে নৌকয় চড়ার সুযোগ পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

ঘাসের দ্বীপ টিটিকাকা!

প্রতি বছর হাজারো পর্যটক ভীর করেন এই হ্রদে।টিটিকাকা হ্রদের বাসিন্দাদেরকে বলা হয় ‘উরো’। আর এদের তৈরি ঘাসের দ্বীপগুলোকে বলা হয় ‘উরোস’। আমাদের দেশে যে বাঁশ দেখা যায় সেগুলো কিন্তু এক ধরনের ঘাস।তবে উরোদের উরোস তৈরিতে ব্যবহ্রত ঘাসকে বলে তোরতোরা।এই তোরতোরা বা তোতোরা ঠিক বাঁশের মতো লম্বা নয়।আবার এতো মোটাও নয়।এই ঘাসের গোড়ার দিকটা মোটা,ডগা সরু।টিটিকাকা হ্রদের জলাভূমিতে এই ঘাস জন্মায়।উরোর এই ঘাস কেটে রোদে শুকিয়ে শক্ত করেন এবং নৌকা বা ঘর তৈরিতে তা ব্যবহার করেন।

ওখানকার প্রতি দ্বীপে ৫ থেকে১২ টি করে গ্রাম থাকে।কোনো দ্বীপেরই গাড়ী নেই।বেশীরভাগ দ্বীপে হোটেলও নেই।পর্যটকরা গেলে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।ছোট ছোট জিনিসপত্র, ওষুধপত্র আর স্কুল রয়েছে দ্বীপে।স্থানীয় লোকজন ঘাসের তৈরি নৌকায় চড়ে আশেপাশের শহরগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে।আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে।আজকাল এসব দ্বীপে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তবে সেটা কেবলই ঘন্টাখানেক সময়ের জন্য। তবে যাই হোক, আজকালের কম্পিউটার যুদ্ধ জাহাজ আর টাইটানিক পরবর্তী যুগেও টিটিকাকা হ্রদের ঘাসের নৌকায় ঘাসের দ্বীপে দিব্যি আছে ওখানকার মানুষগুলো।।

Be the first to comment

Leave a Reply