নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!

পৃথিবীতে অনেক স্থান রয়েছে যার কিছু সংখ্যক আমাদের জানা, বাকিটা অজানা। আর সেই অজানা স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে অনেকের চোখ কৌতূহলী হয়ে থাকে। হবারই কথা। সমৃদ্ধ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ স্ব স্ব রূপ, রঙ, দর্শনীয় স্থান, কৃষ্টি, সংস্কৃতি নিয়ে সমৃদ্ধ। আর তা না দেখে যদি শেষ নিঃশ্বাস নিতে হয় তবে জন্মটাই যেন বৃথা হয়ে যাবে। আবার পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যেখানে কেউ কখনো যেতে পারবে না। অর্থাৎ সেসব স্থানগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আসুন, জেনে নিই দশটি নিষিদ্ধ স্থান সম্পর্কে যেখানে কেউ কখনো যেতে পারে না।

স্নেক আইল্যান্ড, ব্রাজিল

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!

ছবিসূত্রঃ rajaupdatenews.com

ব্রাজিলের ইহহা দ্য কুইমেদা গ্রান্ডে-ডাবেড স্নেক আইল্যান্ড- বিশ্বের সবচেয়ে সাংঘাতিক প্রাণনাশক সাপের একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সুবর্ণ ল্যান্সহেড ভাইপারের জিং এত বিষাক্ত যে, এটির কামড়ে চারপাশে মানুষের মাংস গলে যায় এবং অনেকে দাবী করেন এই এলাকায় প্রতি বর্গ কিলোমিটারে একটি সাপ আছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রাজিলের সরকার এই স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। সেখানে কোনো দল গবেষণার জন্য গেলেও সাথে চিকিৎসক নিয়ে যেতে হয়।

ইউ এন বাফার জোন, সাইপ্রাস

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ IVOOX.id

১৯৭৪ সালে তুর্কি সেনারা সাইপ্রাস আক্রমণ করে। তখন গ্রীক ও তুর্কিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর, জাতিসংঘ দেশটির রাজধানী নিকোশিয়ার “বাফার জোন” নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। সেখানে একটি দেয়াল দক্ষিণের গ্রীক সম্প্রদায় থেকে উত্তর তুরস্ক সম্প্রদায়কে আলাদা করেছে। দেয়ালের পেছনে পরিত্যক্ত ঘর বাড়ি এবং ব্যবসায়কেন্দ্র রয়েছে। কিছু জায়গায় বেসামরিকদের যেতে নিষিদ্ধ না করলেও অন্য সকল স্থানে কেউ যেতে পারে না কয়েক দশক ধরে। সেসব স্থানগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সম্রাট কিন শি হুয়াং এর সমাধি, চীন

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ 123RF Stock Photos

কৃষকরা ১৯৭৪ সালে চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং এর সমাধি আবিষ্কার করেন। প্রত্নতাত্ত্বিকরা রহস্য উদঘাটন করেছেন যে, সেখানে প্রায় ২ হাজার মাটির নির্মিত সৈন্য পাওয়া যায় এবং অনুমান করেন সেখানে আরো ৮ হাজার সৈন্য অনাবৃত রয়েছে। খনন কাজ সত্ত্বেও চীনের সরকার প্রত্নতাত্ত্বিকদের সম্রাট কিন শি হুয়াং এর সমাধি স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন। মৃতদের সম্মান দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং বর্তমান প্রযুক্তি দ্বারা খনন কার্য চালানো হলে পুরাতন নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্থ হবে এই ভয়েও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চেরনোবিল, ইউক্রেন

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ Reader’s Digest

১৯৮৬ সালের ২৬শে এপ্রিল ইউক্রেনের চেরনোবিলের কাছাকাছি (যা তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল) একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটে, যা ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক পারমাণবিক দুর্ঘটনায় পরিণত হয়। যদিও বিকিরণ রশ্মি দ্বারা মৃত্যু সংখ্যা পিন করা সম্ভব না, বিশেষজ্ঞদের মতে ৯ হাজার থেকে ১ মিলিয়ন মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে যা রেডিয়েশন থেকে হয়েছিল। এই ভয়ঙ্কর দুর্যোগের ত্রিশ বছর পরেও পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প চলছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক ধারণা করেন আরো অন্তত বিশ বছরেও এই এলাকাটি বাসযোগ্য হবে না।

এরিয়া ৫১, নেভাডা

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ Naisele – Õhtuleht

এটি সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাঁটি যার আয়তন ২৬ হাজার বর্গ কিঃমিঃ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এরিয়া ৫১কে স্বীকার করতো না যদি না ১৯৯২ সালের দস্তাবেজ ২০১৩ সালে নেভাডা সামরিক বেসের কথা উল্লেখ করে প্রকাশিত না হতো। কর্মকর্তারা এখনো প্রকাশ করেনি সেখানে কোন ধরনের কাজকর্ম করা হয়। সমালোচকরা বলে থাকেন এখানে এলিয়েন সংক্রান্ত কার্যকলাপ সম্পাদিত হয়। এই এরিয়া গুগল ম্যাপে আপনি এক ঝলক দেখে নিতে পারেন। এখানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই কঠোর যার কারণে কোন ছিঁচকে চোরও রেহাই পাবে না।

উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ, ভারত

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ The Daily Universe – BYU

বঙ্গোপসাগরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে যেসব বসতি রয়েছে তার অধিকাংশই ভারতীয়। উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপের উপজাতিরা ৬০ হাজার বছর ধরে এখানে আছে বলে মনে করা হয়। এই দ্বীপটি বিশ্বের শেষ সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে একটি যা বাইরের সমাজের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৬ সালে দুই জেলের একটি নৌকা উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপের গভীরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে এই দুই জেলেকে মেরে ফেলে আদিবাসীরা। এমনকি রিপোর্টে বলা হয় সেখানকার আদিবাসীরা হেলিকপ্টার দেখেও তার দিকে তীর নিক্ষেপ করে। কারণ তারা বাইরের সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ করতে চায় না। তাই ভারতের সরকার ঐ সম্প্রদায়ের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে সম্মত হয় না।

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস, ভ্যাটিকান সিটি

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ CITI IO

ভ্যাটিকান সিক্রেট আর্কাইভস হলো ভ্যাটিকান সিটির কেন্দ্রীয় সংগ্রহশালা হোলি সি দ্বারা প্রমাণিত সব কাজ। পোপ, ভ্যাটিক্যান সিটির সার্বভৌম এবং সর্বপ্রথম ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন, তার মৃত্যুর আগে অথবা পদত্যাগ পর্যন্ত আর্কাইভস মালিকানাধীন ছিল, পরে  তার উত্তরাধিকারীকে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। এটি ভ্যাটিকানের অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত। আর্কাইভের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাগজপত্র, দলিল দস্তাবেজ, পেপাল অ্যাকাউন্টের বই ইত্যাদি অনেক কিছু কয়েক শতাব্দী ধরে সংগৃহীত আছে। সতেরো শতকে পোপ পল ভি এর আদেশে সিক্রেট আর্কাইভগুলো কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী থেকে আলাদা হয়ে যায়। গোপন আর্কাইভকে গবেষকদের জন্য ১৮৮১ সালে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে সেখানে প্রবেশ করা সহজ নয়। যেসকল গবেষকরা আবেদন করে তারা শুধু তিন মাসের জন্য অনুমতি পায় এবং একবারে ৬০ জনের বেশি গবেষককে অনুমতি দেয়া হয় না।

ফোর্ট নক্স, কেনটাকি

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ Reisile – Postimees

ফোর্ট নক্স ভোল্টে তারা বাস করে যাদের স্বর্ণের সংগ্রহশালা কিংবা ভাণ্ডার আছে। এই স্থানটিকে বলা হয় সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। কোনো একক ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। সেখানে অবস্থানরত কোনো কর্মী যদি সাথে থাকে তাহলে প্রবেশ করতে পারে দর্শনার্থীরা নতুবা কখনো ফোর্ট নক্সের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি মেলে না।

সাভালবার্ড বীজ ভোল্ট

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ Porta Drzwi

নরওয়ের উত্তর মেরুতে ৩২০ ফুটের বেশি নিমজ্জিত একটি স্থান, সোভাল্ড সী ভোল্ট অনেক বীজ সংগ্রহ করেছে যা প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় পরিকল্পিতভাবে তৈরি। আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা পরিষদ ভোল্ট শুরু করেছে যেখানে বিভিন্ন দেশের বীজের নমুনা পাওয়া যায়। এই ভোল্টের দরজা বছরে একবার খোলা হয় যেন ডিপোজিটরসরা বীজ রাখতে পারে।

লাস্কুয়েক্স গুহা, ফ্রান্স

নিষিদ্ধ যে দশটি স্থানে সবার প্রবেশ নিষেধ!
ছবিসূত্রঃ buyokproduction.ru

১৯৪০ সালে লাস্কুয়েক্স গুহায় প্রাগৈতিহাসিক চিত্র পাওয়া যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি দর্শনীয় স্থান হয়ে যায়। কিন্তু গুহায় রক্ষিত স্থাপনাগুলো মানুষের নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইডের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার কারণে ১৯৬৩ সালে সাধারণ জনগণের জন্য এটি বন্ধ করে দেয় সরকার।

Be the first to comment

Leave a Reply