ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।

বছরের সারাটা সময় অফিসের কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছেন? প্ল্যান করছেন দেশের বাইরে কোথাও ঘুরে আসার? বা প্ল্যান করছেন মধুচন্দ্রিমায় যাবেন? তাহলে আপনার জন্যই সুন্দরের পসরা সাজিয়ে অপেক্ষা করছে অনন্য থাইল্যান্ড। ঘন জঙ্গল থেকে শুরু করে ঝকঝকে সমুদ্রসৈকত, মজাদার সব খাবার, সমুদ্র বাংলো, বিশ্বের সবচেয়ে দামী হোটেল- কী নেই থাইল্যান্ডে? তবে বাজেট ট্রিপ দিতে চাইলে থাইল্যান্ডে এড়িয়ে চলতে হবে অনেক কিছু। থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ যেটা কখনো উপনিবেশিত হয়নি। চলুন দেখে নেয়া যাক থাইল্যান্ডের সব থেকে দর্শনীয় কিছু স্থান যেখানে গেলে ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে না।

 

১. কো ফি ফিঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
কো ফি ফি।

ফুকেট থেকে অল্প দূরত্বে রয়েছে ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ। থাইল্যান্ডের শীর্ষ স্থানীয় পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম। এখানে একমাত্র কো ফি ফি ডন দ্বীপটিতেই শুধু মানুষের বাস। কো ফি ফি লেহ দ্বীপেও থাকে পর্যটকদের ভিড়। কো ফি ফিতে একটি আগস্টের দুপুর, খালি গায়ে বালির বুকে রৌদ্রস্নান হবে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। এছাড়াও এই দ্বীপে করা যায় স্নোরকেলিং, কায়াকিং, স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো দারুণ সব কর্মকাণ্ড।

 

২. ফ্যাং নগা বেঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
ফ্যাং নগা বে।

ফুকেট থেকে মাত্র ৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত থাইল্যান্ডের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন জায়গাগুলোর মধ্যে একটি ফ্যাং নগা বে। এখানে রয়েছে পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য গুহা, সমুদ্রের নোনাভূমিতে গড়ে ওঠা চুনাপাথরের দ্বীপ। এখানকার সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ হলো কো পিং ক্যান। কোন পিং ক্যানকে বলা হয় জেমস বন্ডের দ্বীপ। জেমস বন্ডের ‘দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান’ চলচিত্রের অধিকাংশই চিত্রায়িত হয়েছে কো পিং ক্যানে। এই দ্বীপে প্রবেশ করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো কায়াক নামের এক প্রকার নৌকা। এই কায়াক দিয়েই প্রবেশ করতে হয় এখানকার সব সমুদ্র গুহায়।

 

৩. রাই লেহঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
রাই লেহ।

আন্দামান সাগরের কোল ঘেঁষে থাইল্যান্ডের ক্রাবি প্রদেশে অবস্থিত রাই লেহ এখানকার জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। এখানে গড়ে উঠেছে থাইল্যান্ডের পর্বতারোহন জোন। কেবলমাত্র নৌকায় প্রবেশ করা যায় রাই লেহতে। পর্বতারোহনের পাশাপাশি এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি দ্বীপ আর বিখ্যাত সব গুহা। বাজেট পর্যটকদের জন্য সস্তা রিসোর্ট থেকে শুরু করে নামীদামী জেট-সেট রিসোর্ট সবই আছে এখানে।

 

৪. নর্দার্ন হিল ট্রাইবসঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
নর্দার্ন হিল।

উত্তর থাইল্যান্ডের দিকে লুকিয়ে আছে থাইল্যান্ডের এমন এক জগত যা সাধারণ পর্যটকদের হাতের নাগালের একটু বাইরে। উত্তর থাইল্যান্ডের এই অঞ্চলটির নাম নর্দার্ন হিল ট্রাইবস। গত ১০০ বছরে এশিয়ান অন্তরমহলের অনেক আদিবাসী এখানে গড়ে তুলেছে তাদের মাথার ছাউনি, থাকার জায়গা। ট্রেকিং করে যে কেউ আসতে পারবে এখানে আর এখানকার যেকোনো গ্রামে কাটাতে পারবে ছুটির কয়েকটি স্মরণীয় দিন। যেহেতু অধিকাংশ আদিবাসীই অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল, তাই এখানে থাকতে খরচের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন।

 

৫. থাই-বার্মা ডেথ রেলওয়েঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
থাই-বার্মা ডেথ রেলওয়ে।

কাওয়াই নদীর ব্রীজের উপর দিয়ে কাঞ্চনাবুড়ি থেকে থাই-বার্মা রেলওয়ে দিয়ে নামতক পর্যন্ত রেলপথের ভ্রমণ থাইল্যান্ডের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও জনপ্রিয় রেল ভ্রমণ। যাওয়ার পথের সৌন্দর্যের সাথে সাথে এই রেলভ্রমণের ইতিহাস এটাকে করেছে বেশি জনপ্রিয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরা তৎকালীন বার্মা-রাজধানী ইয়াংগুনের সাথে ব্যাংকককে সংযোগ দিতে এই রেললাইন বানায় যে রেলপথ দিয়ে তৎকালীন পিডব্লিউ ও এশিয়ান শ্রমিকদের দুর্দান্ত আর মৃতবৎ দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। এখন সেই রেলপথগুলোর একটি মাত্র রেললাইন সচল রয়েছে।

 

৬. সিমিলান আইল্যান্ডঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
সিমিলান আইল্যান্ড।

থাইল্যান্ডের ডাইভিং স্বর্গ হিসেবে খ্যাত সিমিলান আইল্যান্ডে রয়েছে একত্রে ৯টি ছোট ছোট দ্বীপ আর ২টি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ফ্যাং নগা প্রদেশের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সিমিলান আইল্যান্ডে রয়েছে প্রবালের ছড়াছড়ি। নীল পানির নিচে দেখা মেলে বিভিন্ন আকৃতির চোখ ধাঁধানো প্রবাল। ডাইভিং গুরুরা এখানকার “ঈস্ট অফ ইডেন” আর “এলিফ্যান্ট হার্ড রক”কে ডাইভিং হটস্পট হিসেবে ব্যবহার করেন।

 

৭. ফ্যানম রুংঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
ফ্যানম রুং।

উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের মৃত আগ্নেয়গিরির উপর অবস্থিত ফ্যানম রুং একটি হিন্দু মন্দির। এটি জনপ্রিয় এর দুর্দান্ত স্থাপত্যশৈলীর জন্য। দশম থেকে ত্র‍য়োদশ শতাব্দীতে স্থানীয় খমাড় সম্প্রদায় স্থাপন করে এই মন্দিরটি। ফ্যানম রুং বানানো হয়েছিলো ভগবান শিবের কৈলাস পর্বতের স্মারক হিসেবে।

 

৮. কো লিপেঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
কো লিপে।

আন্দামান সাগরের কোল ঘেঁষে স্যাটুন প্রদেশে মালয়সিয়ান সীমান্তে একটি ছোট্ট দ্বীপের নাম কো লিপে। এই দ্বীপ এতই ছোট যে পায়ে হেঁটে ঘুরে শেষ করে ফেলা যাবে। মোট চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কো লিপে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মাছের আস্তানা। স্নোরকেলিং আর স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য বেশ ভালো জায়গা কো লিপে।

 

৯. ওয়াট আরুনঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
ওয়াট আরুন।

থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় মন্দির ওয়াট আরুন। ওয়াট আরুন মানে ভোরের মন্দির। মন্দিরটি স্থাপন করা হয়েছিল হিন্দু দেবতা অরুনের স্মারক হিসেবে। ব্যাংককের ইয়াই জেলার চাও ফারায়া নদীর তটে স্নিগ্ধ পবিত্রতায় মুগ্ধতা ছড়ায় ওয়াট আরুন। ওয়াট আরুনের কেন্দ্রীয় চূড়াটি ৮৫ মিটার মানে ২৮০ ফুট উঁচু।

 

১০. এরাওয়ান ফলসঃ

ঘুরে আসুন সাদা হাতির দেশ থাইল্যান্ড থেকে।
এরাওয়ান ফলস।

কাঞ্চনাবুড়ি থেকে ছোটখাট একটা ট্রিপের কথা চিন্তা করলে সবার প্রথমে যে জায়গার কথা মাথায় আসবে তা এরাওয়ান জাতীয় উদ্যান। থাইল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত এই উদ্যানের মূল আকর্ষণ এরাওয়ান জলপ্রপাত। জলপ্রপাতটির নামকরণ করা হয়েছে হিন্দু পুরাণের তিন মাথাওয়ালা সাদা হাতি এরাওয়ানের নাম থেকে। এরাওয়ান জলপ্রপাতের সাতটি ধারা এরাওয়ান নামকে করে পরিপূর্ণ। সারা বছরই পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে এরাওয়ান জাতীয় উদ্যান।

Be the first to comment

Leave a Reply